শিহাব শাহরিয়ার।।
হৈচৈ পড়ে গেছে চারদিকে। কি হয়েছে এতো রাতে? এতো রাত বলতে দশটা, সাড়ে দশটা হবে। গ্রামে এটাই অনেক রাত তখন, তখন মানে গত শতকের শেষের দিক। বিদ্যুৎহীন প্রাকৃতিক গ্রাম। শ্যামল ছায়ার মায়াবতী গ্রাম। চাঁদের আলোয় ছয়লাব করা গ্রাম। প্রান্তর ভেসে যাওয়া গ্রাম। এমন গ্রাম সন্ধ্যার পর পরই নীরব হয়ে যায়। কিন্তু আজ হঠাৎ এতো রাতে নীরবের দুয়ার খুলল কারা? মানুষের কোলাহল কেন আজ?
হৈচৈ শুনে ছোট-বড় সবাই বের হয়ে এসেছে যার যার বাড়ি থেকে। কোথাও আগুন লাগলে যেমন সবাই বের হয়, তেমনি। গাছের নিচের ছায়ান্ধকার ছাড়া বাকি সব দেখা যাচ্ছে। কারণ দিনের আলোর মত ফকফকা জ্যোৎ¯œা রাত। আওয়াজ আসছে, কোন দিকে গেল? একজন বলল, এই দিক দিয়া গেছে। যারা পরে আসছে, তারা জিজ্ঞেস করছে, কে গেছে? কাকে খুঁজছে সবাই? যারা আগে থেকে ছিল, তাদের কয়েকজন কানাঘুষা করছে করছে, আরে ঐ যে হরবলো নটিটার কতা কইতেছি। ছেড়ি আইজ স্কুল ঘরে নয়াপাড়ার জারজ ওই ওসমানের হঙ্গে হুইছে, ছলিমুদ্দি হেই পাশ দিয়া যাইতাছিল, ছেরির চিকন আওয়াজ পাইয়া কোণার রুমে ঢুইকা দেখে হরিবল কা-! ছেড়ি নাকি শাড়ি রাইখ্যাই দৌড় দিছে। ছেড়াডাও কোনো রকম লঙ্গি পেচায়ে দৌড় মারছে। কওছেন দেহি, স্কুল ঘরাটারে হালার অপবিত্র বানায়া ফেলল। কি সরমের কথা! গাঁওয়ের মান-ইজ্জত তো দেহি আর থাকল না! এই নটির বাচ্চাডারে গেরাম থেইক্যা খেদাইতে অইব। কেউ আরেকজন বলল, এইডারে তো আরও কয়বার গেরাম থেইক্যা বাইর কইর্যা দিছিল কিন্তু বিড়ালের মত আবার আইয়া পড়ে। অন্যজন বলল, ছেরি তিন-চার মাস ভাইগ্যা কোথায় জানি গেছিল গা, টাউনের সিনেমা হলের সামনেই পাটের গোদামের পাশে এক ঘরের কোণায় থাকত। একেক দিন একেক নাগরের হাত ধইরা যাইত গা দরিরামপুর, মেলান্দহ কোথায় কোথায় যাইতো। কেউ কেউ তাকে সন্ধ্যার পর পর ইস্টিশানের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতেও দেখছে।
আরেকজন একটু উত্তেজিত হয়ে বলল, দুঃশ্চরিত্র মাগীডা আবার কেন আইল গেরামে, জোয়ান পোলাপানগোলা একবারে নষ্ট হইয়া যাইব!
চল আমরা জটলা ভাইঙ্গা দেই, নাইলে ঘরের মেয়ে-ছেইলেগোলা সরম পাইতাছেÑ আরেক মুরুব্বি বলল।
এদিকে, এক কান দুই কান করতে করতে সবাই বিষয়টা জেনে ঘরে ফিরে গেল। ছোটদেরকে বড়রা বুঝতে দিতে চাইল না। বড়রা বলল, স্কুল ঘরে চোর ঢুকছিল। ধরার আগেই পালায়ে গেছে। আর মহিলারা তো মাথায় বড় ঘোমটা টেনে লজ্জায় ঘরে ঢুকল। কেউ কেউ মনে মনে শঙ্কিত হল এই ভেবে যে, তাদের ঘরের বড় ছেলেগুলোকে কিভাবে সাবধানে রাখবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকা খালি হয়ে গেল। কেবল পাগলা রশীদ ছাড়া। গ্রামের অনেক ঘটনা ও দুর্ঘটনার নীরব সাক্ষী পাগলা রশীদ। আজকের ঘটনাও ছায়ার ভিতর ও গাছের আড়াল থেকে সব দেখেছে। হরবলা কোথায় পালাল? আর পোলাডাই বা গেল কই? রশিদ সব জানে। সে আস্তে আস্তে আড়াল থেকে বের হয়ে ধীরে ধীরে গাঙের দিকে হাঁটতে শুরু করল। একটু ঠা-া পড়ছে, তাই কোমড় থেকে গোছাটা খুলে লুঙ্গির কিছু অংশ গায়ে জড়িয়ে নিল। ক্ষেতের আইল ধরে হাঁটতে হাঁটতে সে পৌঁছে গেল গাঙের পাড়ে। পাড়ের আরেক দিকে ধঞ্চে ক্ষেত। ক্ষেতের মধ্যিখানে গিয়া লুকায়ে আছে হরবলা। রশীদ গলা নিচু করে ডাকল, এই নটি কই তুই?
এইহানে।
রশীদ শব্দের সঙ্কেত বোঝে, সোজা চলে গেল হরবলার কাছে। হরবলা কাদামাটিতে বিড়ালের মত গুটিমুটি হয়ে শুয়ে আছে। কয়েকটা ধঞ্চে গাছ ভেঙেও গেছে। হরবলা শোয়া থেকে উঠে এক হাত দিয়ে দুই স্তন এবং আরেক হাত দিয়ে যোনি ঢেকে বলল, বাই আমার ঠা-া লাগতাছে। তুমি একটু গিয়া আমার শাড়িডা আনবা? তুমি যা চাও আমি তাই দিমু।
পাগলা রশীদ কোনো উত্তর না দিয়ে ধঞ্চে গাছের ভাজ ভেঙে ভেঙে ক্ষেত থেকে আবার বের হয়ে সোজা হাঁটতে থাকে স্কুল ঘরের দিকে। জ্যোৎ¯œার মেঘে ভিজে ভিজে রশিদ হাঁটে। নিশি রাত। মনে মনে ফিরে যায় নিজের ভিতর। নিজেকে খোঁজে। সেও কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। নষ্ট মেয়ে মানুষই আজ তার ভাল বন্ধু। যে মানুষটি তাকে সব দিয়ে দিতে চায়। সেও তার নষ্ট শাড়ি আনার জন্য যেতে পারে। চোখের সামনে হরবলা নষ্ট হয়ে গেল। গ্রামের সমস্ত মানুষ তাকে আজ ঘৃণা করে। হায় নিয়তি! নিজের দুর্ভাগ্যের চেয়ে হরবলার দুর্ভাগ্য তার কাছে এখন বেশি বেদনাদায়ক। কি করে এই দশা হল হরবলার? কেউ তা ভাবে না! আর হরবলা? সে নিজেও ভুলে গেছে তার নিজের পরিচয়। বাবা-মা, ভাই-বোনদের। এই ভুলে যাওয়ার কারণ তার গায়ের রঙ আর চেহারা। দুধে-আলতা রঙ। চলচ্চিত্রের নায়িকাদের মত চেহারা হরবলার। হরবলাও নায়িকা সত্তরের দশকের। ব্রহ্মপুত্র পাড়ের নায়িকা। ফিল্মের পর্দায় না এলেও, এই অঞ্চলের গ্রাম্য যুবকদের মনের এবং কামনার পর্দাকে আলোকিত করেছে সে। জ্যোৎ¯œার আলোর মর্ম কিম্বা কৃষ্ণপক্ষের অন্ধকারকে গভীরভাবে বুঝবার বোধ তার শেষ হয়ে গেছে। কবে কখন কিভাবে শেষ হয়েছে সে তা নিজেও জানে না। জানবেই বা কি করে। সুযোগ তো পায়নি। এর আগেই ছিটকে পড়েছে। যখন ফ্রকের ভিতর থেকে ওর যৌবনের আলো ছিটকে পড়ত পুরুষ মানুষের চোখে। টিনের চাল দিয়ে বৃষ্টির ধারা যখন গড়িয়ে পড়ত ঘরের আঁচলে। সেটি দেখার চোখ ওর নষ্ট হয়ে গেছে। বাড়ির পাশে স্কুলের মাঠ তাকে হাতছানি দিত, সম-বয়সীরা আহ্বান করত খেলার সাথী হতে কিন্তু ও সাড়া দিতে পারত না। ভিতরে ভিতরে ওর মন কাঁদত। ও জানত কোনোদিনই ও বিদ্যালয়মুখী হতে পারবে না। ওর পেট শুকায়। দিন যায় খাওয়া নাই। অকালে ও আকালে বাবাকে হারিয়েছে। মাও গেছে পরের বছর। খাওয়ার অভাবে ভাইবোনগুলো কোথায় ছিটকে পড়েছে সে আজ আর জানে না। শুনেছে বড় ভাই ট্রেন ধরে কোন বিদেশ চলে গেছে। ইহ জনমে তার সঙ্গে দেখা হবে কিনা সে জানে না।
এইটুকু ভাবতে ভাবতে রশীদ স্কুলের কাছে এসে পৌঁছায়। চারিদিকে চোখ ঘুরিয়ে একবার দেখে নিল। কোথাও কেউ আছে কিনা। চাঁদ তখন খাড়া মাথার উপর। নিজের শরীরের ছায়া বড় হয়নি। সে চুপচাপ স্কুল ঘরের সিঁড়ি পাড় হয়ে বারান্দা দিয়ে ওই রুমের দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলে বেঞ্চের নিচে পড়ে থাকা শাড়িটি তুলে হাতে পেচিয়ে নিয়ে বেরিয়ে এলো। আবার চারদিকে তাকাল। কেউ নেই। হাঁটতে হাঁটতে স্কুলের মাঠ পাড় হচ্ছে, এমন সময় হঠাৎ বৃদ্ধ গলার কাশি শুনতে পেয়ে চমকে উঠল এবং লাফ দিয়ে গাছের আড়ালে গিয়ে লুকাল। বৃদ্ধ তমিজ মন্ডল অভ্যাসবশত প্রায় প্রতি রাতের এই সময়টাতে ঘরের বাইরে আসে হুক্কা টানতে। আর হুক্কাপায়ী বলে তার গলায় নিকোটিনের কারণে সব সময়ই কফ জমে থাকে। সেজন্য গলা কাশলেই শব্দ হয়। রাতের বেলা এই আওয়াজ অনেক দূর পর্যন্ত চলে যায়। তো তমিজ মন্ডল তার বৈঠক ঘরের বাইরে বেঞ্চে বসে হুক্কা টেনে মিনিট দশেকের মধ্যে আবারও ভিতরে ঢুকে গেল। রশিদ এই দশ মিনিট সময় গাছের তলায় জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে আবার গাঙের দিকে হাঁটা দিল। খুব দ্রুতই সে পৌঁছে গেল হরবলার কাছে। হরবলা আগের জায়গা থেকে সরে একটু শুকনা ও উঁচুতে গিয়ে আগের মতই গুটিশুটি হয়ে শুয়ে আছে। রশীদ ওর দিকে শাড়িটা ছুঁড়ে দিয়ে বলল, এই নে শইল্যে জড়া। হরবলা দাঁড়িয়ে শাড়ি হাতে গাঙের দিকে গেল। নদীতে দুই ডুব দিয়ে কোনো রকম পবিত্র হওয়ার চেষ্টা করে গায়ে শাড়ি পেচিয়ে আবার আগের জায়গায় ফিরে এলো। রশিদ উল্টা দিকে ঘুরে বসেছিল। হরবলা পিছন দিক থেকে রশিদের মাথায় ঠা-া হাত রাখল। রশিদ ওর হাত সরিয়ে দিয়ে বলল, যা মাগী ওই দিকে গিয়ে ব। হরবলা রশিদের সামনে গিয়ে দুই হাত চেপে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ল। নিচু স্বরে একটানা কাঁদল কিছুক্ষণ। রশীদ ওকে থামাল না ইচ্ছে করেই। ওকে হালকা হতে দিল। কান্না থামিয়ে হরবলা বলল, বাই তুমি ছারা এই দুনিয়াতে আমার আর কে আছে? বাপে মরল, মায়ে মরল, বাইবোন গুলান কই আছে, কিছুই জানি না। বাগ্যের দুষে আমি আইজ শরীল বিলায়ে খাই। এই শরীল বিলাইতে গিয়েও কত যে বিপদ, কত যে কষ্টÑ এইডাও তুমি ছারা আর কুনো হারামির পোলারা বুজবে না। আইজ রাইতের মতই আরেকটা বিপদ হইছিল মেলান্দ ইস্টিশানে। অনেক রাইতে টিকেট গরের চিপায় গুমাইতে ছিলাম। বাহাদুরাবাদগামী এক টেরেনের যাত্রী ইস্টিশানে নাইমা আমাকে দেইখ্যা ফেলাইছে। হালারপুত চুপচাপ আইসা আমার হাত দইর্যা টাইন্নে উঠায়ে পাশের এক জুপরির দিকে নিয়া যাইতেছিল। আমার শরীল বালা ছিল না। আমি দিলাম এক চিৎকার। আওয়াজ হুইন্যা হাত ছাইরে দিয়ে হালায় দিলো দৌড়। গুম থেইক্যা উইঠ্যা মেলা মানুষ জমা হইতাছে দেইখ্যা আমি দৌড় মারলাম বড় গাঙের (ব্রহ্মপুত্র) দিকে।
রশীদ একটু রাগত স্বরে বলল, পুরানা কিসস্যে ছাড়, বল এহন কি করবি? সহাল বেলা এই গেরামের মানুষ তরে দেখলে মাথা নাইরে কইর্যা র্দুরা মারবে। যা করবি রাইতের মধ্যেই কর।
গেরামের বেবাক মানুষ তোমারে পাগল বানাইছে, কিন্তু আমি জানি তুমি মাথায় কত বুদ্ধি রাহ। আমার বাপ নাই, মা নাই, এই বিপদের সময় তুমিই আমার বাপ-মাও। তুমি আইজ না থাকলে আমার যে কি অইত আল্লাই জানে। সব জোয়ান বেডারা আমার ধলা শরীলডার তাকাইয়া জিহ্বের পানি ফালায়। আর তুমি বাই আমার নেংটা গতরটা পর্যন্ত তাকায়ে দেহ না। ট্যাহার বিনিময়ে আমি শরীল দেই। তোমার এক পয়সা নাগবো না, নেও আমারে নেও। জানি, তুমি আমারে নিবা না। তোমারই কি কম দুঃখ? আমার এই দুনিয়ায় কেউ নাই আর তোমার সবাই থাইক্যাও নাই। তুমিও একটা হতবাগা। রাইতের বেলা বেবাক মানুষ যহন ঘুমায়, আমরা দুইজন জাইগ্যা থাহি। কি পুরা কপাল আমাগরে? জানো বাই, পত্তেক দিন ভুরবেলা গিয়া পাগলপাড়ার নছিমন বুবুর ডেরায় ঘুমাই। হারাদিন ঘুমায়ে আবার রাইতে নাগর ধরি। মাজে মাজে মনডা কয়, গলায় ফাঁস দেই। এইডা কুনো জীবন অইল? জানো আমার ইচ্চে ছিল, নেহাপড়া কইরা টাউনে যামু, টেরেন ধইরা ঢাহা যামু, চাকরি করমু। বিয়ে অইবে। মদ্যে মদ্যে বাড়ি আইমু। হায়রে কপাল! হালাই শইল্যের কাম কইরে ছেড়ি বইসে বুড়ি অইয়া যাইতাছি। কুনো কুনো রাইতে তিনজন, চারজন, পাচজনও শরীলডেরে দুমরাইয়া মুচরাইয়া খায়। শইলডেই আর কত কুলাইবে। যে টেহা পয়সা পাই, তা উদর ভরাই অই না।
তোরেএই প্যাচাল পারতে না করলাম না?
রশীদকে ধরে হরবলা আবার ডুকরে কেঁদে ওঠেÑ বাই আমি আর এই গেরামে থাহুম না। নাড়িপুতা ভিটা ছাইড়া চইলা যামু দূর দ্যাশে…। আর কুনোদিন ফিরা আইমু না…
রশীদের মন ভারী হয়ে ওঠে হরবলার কথায়। হরবলাকে জড়িয়ে ধরে। দূর থেকে ভেসে আসে ফজরের আজান। দু’জন দুজনকে কিছুক্ষণ ধরে রাখে। দূরে পাখির কিচিরমিচির শোনে ওরা উঠে নদীর দিকে যায়। হাঁটু পানিতে নামে। দুই হাত দিয়ে পানি তুলে চোখ ভিজায়। একজন লুঙ্গি দিয়ে একজন শাড়ির আঁচল দিয়ে মুখ মুছে তীরে ওঠে। চাঁদ ডুবে যাওয়া ভোরে দু’জন গাঙের কিনার ধরে হাঁটতে থাকে গঞ্জের দিকে। সকালের আলো ফুটতে না ফুটতেই ওরা চলে আসে রেল-স্টেশনে। স্টেশনের এক কোণায় গিয়ে দু’জন চুপচাপ বসে থাকে। বেলা ওঠে। হরবলা তার শাড়ির আঁচলে বাঁধা টাকা বের করে নাস্তা খেতে যায়। নাস্তা খাওয়ার পর যায় স্টেশন মাস্টারের ঘরে। রশীদ জিজ্ঞেস করে, ঢাকার টেরেন কহন? উত্তর আসে বিকাল পাঁচটায়। ওরা রেল লাইন ধরে হাঁটতে থাকে পশ্চিম দিকে। তখন বেড়ে গেছে জন কোলাহল। হাঁটতে হাঁটতে ওরা রেল লাইন ছেড়ে এক গ্রামে ঢোকে। সারাদিন গ্রাম ঘুরে আবার আসে স্টেশনে। ঢাকাগামী ট্রেন এসে থামে। রশীদ টিকিট ছাড়া হরবলাকে উঠিয়ে দেয় থার্ডক্লাশ এক কম্পার্টমেন্টে। উঠার আগে হরবলা রশীদকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদে। হরবলা বলে, আমি তোমারে ছাইড়ে কোতাও যাবো না। রশীদ কান্না আটকিয়ে রেখে বলে, যা পাগলি।
বিকেলের আবছা আলোয় ধুলি উড়িয়ে হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন চলে যায়। রশীদ ট্রেনের ধুলো চোখে মেখে ধীরে ধীরে নেমে যায় প্লাটফরম থেকে। বিকেলে আবছা আলোয় নিজের ভিতরের তোলপাড় বন্ধ করার চেষ্টা করে। পা এগোতে চায় না সামনের দিকে… বুকের ভেতর খাঁ খাঁ শূন্যতা অথবা ভারী বর্ষণ হচ্ছে… এখন কোথায় যাবে সে? একটা নষ্ট মেয়ের জন্য তার এতো কষ্ট হচ্ছে কেন? রেল লাইন থেকে নেমে সোজা হাঁটা দেয় ব্রহ্মপুত্রের দিকে। নদের ভিজা বালিতে পা রেখে সন্ধ্যার লাল আভায় শোভিত জলের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে ওঠে হরবলা… হরবলা… হরবলা…
Leave a Reply